শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:১০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীন বরণ-জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংবর্ধনা রঙিন ফুলকপি চাষ করে জীবন রাঙাতে চায় ঝিনাইগাতীর শফিকুল  ১নং কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম খান সোহেল সফলতার সাথে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ করে আজ প্রথম বছর পেরিয়ে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কেন্দুয়া বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিলেন কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম খান সোহেল কুটামনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত কেন্দুয়া বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরন বকশীগঞ্জ আ.লীগ সভাপতির বাসায় দূর্ধষ ডাকাতি জামালপুরের মেষ্টা ইউনিয়নে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, ধর্ষক চাচা গ্রেপ্তার জামালপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩২তম বার্ষিক সদস্য সভা অনুষ্ঠিত
অসহায় ফুলমতির ভাগ্যে জোটেনি সরকারি ঘর

অসহায় ফুলমতির ভাগ্যে জোটেনি সরকারি ঘর

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
জামালপুরে মেলান্দহ উপজেলায় পলিথিনের ঘরে বসবাস করা অসহায় বিধবা ফুলমতি সরকারি সহায়তার একটি ঘর চেয়েছেন। ঘরের আশায় ইউপি সদস্যের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অনেকটাই ক্লান্ত এ বিধবা নারী।
উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউপির ছবিলাপুর গ্রামের মৃত ফজল উদ্দিনের স্ত্রী ফুলমতি। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও কেউ খোঁজ রাখেননি, স্বামীকে হারিয়েছেন ২ বছর আগে।
মাকে ফেলে ছেলে শাহাবুদ্দিন স্ত্রী সন্তান নিয়ে আলাদাভাবে সংসার করছেন। তার এমন বিপদে এগিয়ে আসেননি জনপ্রতিনিধিরাও। এখন পর্যন্ত তার ভাগ্যে জোটেনি বিধবা ভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা ঘর।
সরেজমিনে বিধবা ফুলমতির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কোনো রকমে পলিথিন দিয়ে তৈরি ছোট একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকেন। নেই ঘরের বেড়া, যেদিন রাতে বৃষ্টি আসে সেদিন বিছানার এক কোণে বসে রাত কাটান তিনি। বৃষ্টির পানিতে সব কিছু ভিজে যায়।
মানবেতর জীবন-যাপনের কথা জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিধবা ফুলমতি বলেন, ‘আমার খোঁজখবর নিয়া কি হবে, ৮ বছর অসুখে ভুইগা মারা গেছে স্বামী। শুধুমাত্র বসতভিটাটা ছাড়া অন্য কোনো সহায়-সম্পদ রেখে যায় নাই। একমাত্র ছেলেটাও আমার খোঁজ রাখে না। অন্যের বাড়িতে কাজ-কাম কইরা বাইচা আছি। এই একটা ঈদ গেলো কোনো মেম্বার-চেয়ারম্যান এক পয়সা টাকাও দিয়ে সহযোগিতা করেনি। করোনার জন্য ২৫শ করে টাকা পাইছে সবাই। গত বছরে মেম্বারের কাছে গিয়া কথা বলছি আমার একটা নাম দিতে, কিন্তু মেম্বার আমার নাম দেয় নাই।’
তার প্রতিবেশী আলম মিয়া জানান, বৃষ্টি-বাদলের দিন খুব কষ্ট হয় এ বিধবার। ফুলমতি অতিদরিদ্র হলেও তার ভাগ্যে জোটেনি বিধবা ভাতা ও একটা সরকারি ঘর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা কার্ড দিচ্ছে চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। গরিব অসহায় মানুষগুলো সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে এসেছিলে একবার, তখন আমি তার আইডি কার্ড নিয়ে বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলাম। যাদের বিধবা ভাতার কার্ড হয়েছে পর্যায়ক্রমে তাদের নগদ একাউন্ট খোলা হচ্ছে। বিধবা ভাতার জন্য যাদের আবেদন করা হয়েছে তাদের কার্ড হবে পর্যায়ক্রমে।
ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান বলেন, যেহেতু বিষয়টি অবগত হয়েছি এখন খোঁজখবর নিয়ে তার জন্য ভাতার ব্যবস্থা করব। প্রথমে আমার কাছে আসলে তার কার্ডের ব্যবস্থা করে দিতাম আগেই এবং ঘরের একটি ব্যবস্থা করে দিতাম।
মেলান্দহের ইউএনও মোহাম্মদ শাফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন ঘরের বরাদ্দ আসলে একটি ঘর দেয়া হবে। এখন আমরা ফুলমতির জন্য ঢেউটিনের ব্যবস্থা করবো। সেই সঙ্গে ভাতার জন্য আবেদন করে থাকলে সেটা করে দেয়ার ব্যবস্থা করবো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply




© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY SheraWeb.Com