বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীন বরণ-জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংবর্ধনা রঙিন ফুলকপি চাষ করে জীবন রাঙাতে চায় ঝিনাইগাতীর শফিকুল  ১নং কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম খান সোহেল সফলতার সাথে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ করে আজ প্রথম বছর পেরিয়ে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কেন্দুয়া বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিলেন কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম খান সোহেল কুটামনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত কেন্দুয়া বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরন বকশীগঞ্জ আ.লীগ সভাপতির বাসায় দূর্ধষ ডাকাতি জামালপুরের মেষ্টা ইউনিয়নে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, ধর্ষক চাচা গ্রেপ্তার জামালপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩২তম বার্ষিক সদস্য সভা অনুষ্ঠিত
কমেছে চড়ুই, নেই সেই কিচিরমিচির শব্দ

কমেছে চড়ুই, নেই সেই কিচিরমিচির শব্দ

স.স.প্রতিদিন ডেস্ক ।।

সকালে এখন আর কিচির-মিচির শব্দটা শোনা যায় না। একটা সময় বাড়ির আনাচে-কানাচে একঝাঁক পাখিরা খেলা করত,ঝগড়া করত। এমন দৃশ্য যারা দেখেছেন, তাদের মনে আজ অন্য প্রশ্ন- ছোট ছোট চড়ুই পাখির দল হারিয়ে গেল কোথায়?

ইংরেজি নাম Sparrow, আর বাংলায় নাম চড়াই বা চড়ুই। যেকোনো লোকালয়ের আশেপাশে একটি সুপরিচিত পাখি। এরা জনবসতির মধ্যে থাকতে ভালোবাসে তাই এদের ইংরাজি নাম হাউস স্প্যারো অর্থাৎ ‘গৃহস্থালির চড়াই’। খড়কুটো, শুকনো ঘাস পাতা দিয়ে এরা কড়িকাঠে, কার্নিশে বাসা বাঁধে। সমস্ত দিন এরা লাফিয়ে বেড়িয়ে মাটি থেকে পোকামাকড় বা শস্য খুঁটে খায়।

চড়ুই পাখি। ছবি : সংগৃহীত

চড়ুই পাখি। ছবি : সংগৃহীত

এদের দেহের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার, ওজন প্রায় ২০ গ্রাম। পুরুষ ও স্ত্রী চড়ুই দেখতে আলাদা। পুরুষের মাথা ধূসর ও নীল মেশানো, ঘাড় পিঠ ও পাখনা খয়েরি লাল বা পিঙ্গল। চোখের পেছন থেকে ঘাড় অবধি মোটা গাঢ় লালচে বাদামি বর্ণের। লেজ ও লেজের গোড়া ধূসর। স্ত্রী পাখির রঙ ওপরের দিকে ধূসর বাদামি, তার ওপরে কালচে বা পিঙ্গল দাগ, পেট সাদাটে। পুরুষ পাখিটি দেখতে বেশি সুন্দর এবং সে বেশি গান গায়।

এরা চার থেকে ছয়টি ডিম পাড়ে। ছানা ফুটতে সময় লাগে প্রায় ১৩ দিন। ছানারা উড়তে শিখলে বড়দের সঙ্গে মাঠে খাবার খেতে যায়। প্রজনন মৌসুমে পাতি চড়ুই খড়কুটো, কাঠি, শুকনো ঘাস, পালক দিয়ে মানুষের ঘরে বাসা বানায়। গ্রামের ঘরের টিনের চালের কোণে বাসা বাঁধে। শহরের ভেন্টিলেটর, মিটার, সিলিং, পাইপের ফাঁকফোকরে চড়ুইদের বাসা দেখা যায়। পাতি চড়ুইদের কবুতরের খোপে, বিচি কলার কাঁদির ভেতর ও খড়ের পালায় বাসা বাঁধতে দেখা যায়। বাসা তৈরি হলে পুরুষটি সুরেলা কণ্ঠে গান গায়। প্রেম প্রণয়ের পরে বাচ্চা ফুটে। দুজনেই তাদের লালন-পালন করে।

চড়ুই পাখি। ছবি : সংগৃহীত

চড়ুই পাখি। ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীতে মোট ৪৮ প্রজাতির চড়ুইয়ের অস্তিত্ব মিলেছে। জীববিজ্ঞান অনুযায়ী এদের পরিবার ১১টি গণে বিভক্ত। ‘গৃহস্থালির চড়ুই’ এদের মধ্যে সবচেয়ে সুপরিচিত। এদের আদি নিবাস ছিল ইউরেশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ। তবে উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানেও ব্যাপকভাবে চড়ুই ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতারণা করা কেউই পছন্দ করে না। বিশেষ করে দাম্পত্য জীবনে প্রতরণা মারাত্মক বিপদ ঢেকে আনে। এর থেকে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ঘটে থাকে। জানেন কি? চড়ুই পাখিরাও ঠিক এমন। যদি তারা জানতে পারে তাদের সঙ্গীর অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক আছে তবে তারা পরস্ত্রীর বাসা ভেঙে দেয় ও তাদের সন্তানদের মেরে ফেলে। এমনটি করার কারণ হলো স্ত্রী চড়ুই চায় তার পুরুষ সঙ্গীটি যেন শুধু তাদের বাচ্চার সঙ্গেই সময় কাটায়।

চড়ুই পাখি। ছবি : সংগৃহীত

চড়ুই পাখি। ছবি : সংগৃহীত

চড়ুই পাখির সংখ্যা ক্রমশ কমছে। খুব একটা দেখা মিলছে না ওদের। শহরের ইমরাতগুলোতে ওদের সেই আরামদায়ক ফাঁকফোকর থাকছে না। বাড়িওয়ালারা নতুন নতুন নকশায় ইমারত নির্মাণ করছে। চড়ুই থাকলে ডিসটেম্পার নষ্ট হয়ে যাবে, তাই এই নতুন ব্যবস্থা।

পাখি বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানিয়েছেন, পরিবেশের কারণেই হারিয়ে যেতে বসেছে চড়ুই পাখির দল। চড়ুই পাখির বাসা নষ্ট করা, ডিম ভেঙে ফেলা, গুলি করা, বন্দী করাসহ নানা কারণে কমে চলেছে চড়ুই পাখির সংখ্যা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply




© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY SheraWeb.Com