শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীন বরণ-জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংবর্ধনা রঙিন ফুলকপি চাষ করে জীবন রাঙাতে চায় ঝিনাইগাতীর শফিকুল  ১নং কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম খান সোহেল সফলতার সাথে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ করে আজ প্রথম বছর পেরিয়ে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কেন্দুয়া বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিলেন কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম খান সোহেল কুটামনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত কেন্দুয়া বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরন বকশীগঞ্জ আ.লীগ সভাপতির বাসায় দূর্ধষ ডাকাতি জামালপুরের মেষ্টা ইউনিয়নে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, ধর্ষক চাচা গ্রেপ্তার জামালপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩২তম বার্ষিক সদস্য সভা অনুষ্ঠিত
কাবুলিওয়ালার খোরমা খেজুর কিসমিস বাদামের অমৃত স্বাদ

কাবুলিওয়ালার খোরমা খেজুর কিসমিস বাদামের অমৃত স্বাদ

রবীন্দ্রনাথের কাবুলিওয়ালা তখনো পড়িনি। দেখা হয়নি সে গল্প নিয়ে বানানো তপন সিংহের সিনেমার কাবুলিওয়ালার সাজে ছবি বিশ্বাসকে।

তবে খোকির জীবনটার পাঠ আমাকেও নিতে হয়েছিল। আরেক কাবুলিওয়ালার সাথে। জামালপুর শহরের ছেলেবেলাটায়।
তখন বোধহয় মফস্বল এলাকাগুলোতে কাবুলিওয়ালার বোধহয় বেশ ছড়িয়ে ছিটিয়েই ছিল। নিজ বাসভূম ছেড়ে দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর তারা পরিবার পরিজন ছাড়া দিনপাত করত।
তারা ফেরির ব্যবসা করত। অন্দর মহলের মেয়েদের কাছে তাদের চাহিদা ছিল বেশ। ফেরিওয়ালাদের মতোই তারা পাড়ার রাস্তায় রাস্তায় হাঁকাহাঁকি করে ফিরতো তাদের পণ্যের কথা বলে। হাঁকাহাঁকিতে ঘরের রাস্তার ধারের কপাটগুলো পটাপট খুলে যেত।
কাবুলিওয়ালারা কি কি ফেরি করত, তার দিকে আমার কোনো আকর্ষণ ছিল না। আমার নজর ছিল তাদের ঢাউস কাপড়ের পোটলা থেকে বের করে আনা পেস্তা বাদাম আখরোট কিসমিসের দিকে। বিভিন্ন জাতের শুকনো ফল আর গরম মশলাও ছিল। তাদের কাছে মেয়েদের জন্য বিভিন্ন কাজকরা জামাকাপড় ইমিটেশনের গয়নাগাটি অলংকারও বোধহয় ছিল। তবে শুকনো ফলের ব্যবসাই তাদের সাধারণ ব্যবসা।
আব্বাদের জন্য তারা ভালো অর্থের যোগানদাতা। সুদের কারবারটাই তাদের জমজমাট। বিনা জামিনে ও জামানতে কোনো রকম দলিল দস্তাবেজের ধার না ধেরে শুধুই বিশ্বাসের উপর তারা লোকদেরকে চড়া সুদে টাকা ধার দিত। মাসে মাসে সুদ নিয়ে যেতো। আসল পরে দিলেও চলবে– যতো পরে পারো। তবে সুদটা নগদ নগদ। সেই থেকেই বোধহয় কথার চলতি হয়েছে: আসল নেহি সুদ মাংতা।
কাবুলিওয়ালাদের নিয়ে অনেক গল্প রঙ্গ তামাসা রয়েছে।
আমি তখনো স্কুলে যাই না। এক কাবুলিওয়ালা মাঝে মাঝেই আসতো আমাদের বাসায়। আমাকেই দেখতে। আমারই বয়েসি এক ছেলেকে সে রেখে এসেছে আফগানিস্তানের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে। আমাকে দেখতে পেলেই তার মন আনচান করে ওঠে। উথলে ওঠে হৃদয়।
আসার সময় কিছু না কিছু হাতে করে নিয়ে আসে আমার জন্য। ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় গল্প করে আমার সাথে। আদরও করে। যাওয়ার সময় মুঠো ভরে কিসমিস দিয়ে যায়। কিসমিস আমার খুব পছন্দ। কিসমিস পেয়ে আমি চিংড়ি মাছের মতো লাফাতে থাকি।
কাবুলিওয়ালা চলে গেলে আম্মা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। আমার ডানা ধরে ঝাকি দিয়ে বলেন, অতো ফাল পারিস না। কী মতলব কে জানে। ধরে নিয়ে ঐ পোটলায় তোকে পাচার করে দেয় কিনা কে জানে।
আমি বলি, তাই কি হয়? আমি তো তার ছেলের মতো।
আসলে সে সময় শহরে ছেলেধরা নেমেছে বলে জোর গুজব। ভয়টা সেখান থেকেই।
আম্মা গজগজ করতে থাকেন, ছেলে না ছাই। লম্বা ফরসা মানুষের ছেলে বুঝি তোর মতো কালো!
কিসমিসের কাছে কোনো শংকা কোনো যুক্তি কাজ করে না। কদিন পর সে আমাকে দেখতে আবার বাসায় এলে আমি আগের মতোই উচ্ছসিত হয়ে উঠি।
আম্মা আবার সাবধানবাণী উচ্চারণ করেন, যতো মিষ্টি কথাই বলুক, ওরা অতো ভালো না। ওদের মধ্যে রহম নাই।
তা হলেও হতে পারে। শোনা যায়, কোনো লোক দেনার টাকা শোধ না করে মারা গেলে ওরা তার কবরে গিয়ে তার উপরই লাঠি পিটাতে পিটাতে পাওনা টাকা দাবী করতে থাকে। বেকায়দা বুঝে ওয়ারিশানরা এসে পাওনা টাকা শোধ করে।
বেশ কিছুদিন কাবুলিওয়ালা লোকটার দেখা নেই।
আমার খেয়াল নেই। আম্মাই একদিন বললেন, কাবুলিওয়ালাকে দেখেছিস?
আমারও খেয়াল হলো। বললাম, নাতো!
আম্মা অবাক হয়ে বললেন, কি হলো?
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, বড়ো ভালো লোক ছিল।

লেখক:   আতা সরকার, কথাসাহিত্যিক ও কলাম লেখ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply




© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY SheraWeb.Com