বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:০১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীন বরণ-জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংবর্ধনা রঙিন ফুলকপি চাষ করে জীবন রাঙাতে চায় ঝিনাইগাতীর শফিকুল  ১নং কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম খান সোহেল সফলতার সাথে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ করে আজ প্রথম বছর পেরিয়ে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কেন্দুয়া বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিলেন কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম খান সোহেল কুটামনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত কেন্দুয়া বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরন বকশীগঞ্জ আ.লীগ সভাপতির বাসায় দূর্ধষ ডাকাতি জামালপুরের মেষ্টা ইউনিয়নে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, ধর্ষক চাচা গ্রেপ্তার জামালপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩২তম বার্ষিক সদস্য সভা অনুষ্ঠিত
জামালপুরে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী হারিকেন

জামালপুরে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী হারিকেন

মোঃ আব্দুর রহমান রাফে ।।
শৈশব জীবনে বিদ্যুৎবিহীন চরাঞ্চলে আলোর চাহিদা মিটানো একমাত্র অবলম্বন ছিল হারিকেন। হারিকেন গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী প্রতীকগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই হারিকেন আজ বিলুপ্তির পথে।
বিদ্যুৎহীন চরাঞ্চলে রাতের অন্ধকার দূর করতে এক সময় মানুষের অন্যতম ভরসা ছিল হারিকেন। যার অন্যতম জ্বালানি উপাদান ছিল কেরোসিন। তখনকার সময় চরাঞ্চলে রাতে মাছ ধরা, বিয়ে-সাদি, যাত্রাগান, পালাগান, মঞ্চ নাটক কিংবা বাড়িতে দোয়ার অনুষ্ঠান করা হতো হারিকেনের আলোয়।
হারিকেন জ্বালিয়ে বাড়ির উঠানে কিংবা ঘরের বারান্দায় ভাই-বোন একসাথে পড়াশোনা করতো। ডাক পিয়নরা চিঠির বোঝা পিঠে করে হাতে হারিকেন নিয়ে চরাঞ্চলে ছুটে চলতো। হারিকেনের জ্বালানি উপাদান কেরোসিন আনার জন্য কাচের বোতল ছিল। সন্ধ্যার আগেই হারিকেনের কাছ মুছে তেল ভরে জ্বালানো হতো।
বিদ্যুৎহীন চর অঞ্চলের ইতিহাসে অন্ধকার রাতে হারিকেনের মিটি মিটি আলো জ্বালিয়ে পথ চলার স্মৃতি কার না মনে পড়ে। রাতে চলায় পথের একমাত্র নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হারিকেন।
দেশ পরিচালনার দায়িত্বে উচ্চ পর্যায়ে ছিলেন কিংবা আছেন যারা তাদের অনেকেই এই হারিকেন কিংবা কুপির মৃদু আলোর সাহায্যে লেখা পড়া করেছেন। ব্যবসা ও গৃহস্থালির কাজেও হারিকেনের ব্যাপক চাহিদা ছিল।
চান্দের হাওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ছোটবেলায় আমরা ল্যাম্প কিংবা হারিকেনের মৃদু আলোয় লেখাপড়া করেছি। বাতাসের ঝাপটায় কখনও কখনও আলো নিভে গেছে। আবার দিয়াশলাই অথবা চুলার আগুনে পাটকাঠি দিয়ে আলো জ্বালিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, হারিকেনের আলো মৃদু হলেও সেই সময় শিক্ষার্থী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের চোখের তেমন সমস্যা হতো না। কিন্তু আজ বিদ্যুতের আলোর ঝলকানিতে শিশু ও প্রবীণদের চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হারিকেন এখন শুধুই স্মৃতি। নতুন প্রজন্ম হয়তো হারিকেন সম্পর্কে জানবে না, পড়তে হবে ইতিহাস। হয়তো এক সময় হারিকেনেরে দেখা মিলবে বাংলার জাদুঘরে।
সমাজ পরিবর্তন, বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় চর অঞ্চলের সেই ঐতিহ্যবাহী হারিকেন এখন বিলুপ্তির পথে। বৈদ্যুতিক বাতি, চার্জার ও বিদ্যুতের নানা ব্যবহারের ফলে হারিকেনের ব্যবহার আজ আর দেখা যায় না।
উপক‚লীয় অঞ্চলে এখন হারিকেন যেমন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর তেমনি বিদ্যুৎ নেই এমন চরঞ্চল হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে হারিকেনের জায়গা দখল করে নিয়েছে সৌর বিদ্যুতের আলো বা চার্জার লাইট। চরঞ্চলে এখনও দু-এক বাড়িতে হারিকেন পাওয়া গেলেও দেখা যায় ব্যবহার না করায় সেগুলোতে ময়লা ও মরিচা পড়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply




© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY SheraWeb.Com