বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
গজনী অবকাশে মহাআনন্দের ছড়াছড়িতে দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন পত্রিকার ১০ম বর্ষে পদার্পণের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীন বরণ-জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংবর্ধনা রঙিন ফুলকপি চাষ করে জীবন রাঙাতে চায় ঝিনাইগাতীর শফিকুল  ১নং কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম খান সোহেল সফলতার সাথে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ করে আজ প্রথম বছর পেরিয়ে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কেন্দুয়া বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিলেন কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম খান সোহেল কুটামনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত কেন্দুয়া বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরন বকশীগঞ্জ আ.লীগ সভাপতির বাসায় দূর্ধষ ডাকাতি জামালপুরের মেষ্টা ইউনিয়নে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, ধর্ষক চাচা গ্রেপ্তার
সুনাম হারাচ্ছেন বিল গেটস

সুনাম হারাচ্ছেন বিল গেটস

স.স.প্রতিদিন ডেস্ক ।।

বিল গেটস, মার্কিন এই ধনকুবেরের নামটার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক পরিচয়। একজন সফল মানুষ তিনি, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা, বহু বছর বিশ্বের শীর্ষ ধনী ছিলেন, এখনো সে তালিকায় প্রথম সারিতে, আবার একজন দূরদর্শী বৈশ্বিক সমাজসেবী তিনি। এমনকি কোভিড-১৯-এর সময়েও বিশেষজ্ঞ হিসেবে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন গেটস।

তবে হঠাৎ করেই যেন কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেল তাঁর গোছানো অর্জন। এ মাসের শুরুতে সবাইকে হতবাক করে দিয়ে ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দেন বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। অবশ্য দুটি মানুষের পথ পাল্টাতেই পারে। তবে এ ঘোষণার পর বিল গেটসকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সিরিজ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে, তা তাঁর সেলিব্রিটি ব্যক্তিত্ব জটিল করে ফেলছে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করার সুযোগ তৈরি করছে।

সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জানায়, পরকীয়ার জেরে ২০২০ সালে মাইক্রোসফটের বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ান গেটস। প্রায় ২০ বছর আগে মাইক্রোসফটের এক কর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বিল গেটস। ২০১৯ সালে সেই ঘটনা প্রকাশ পেলে তদন্ত শুরু করে মাইক্রোসফট করপোরেশন। তার জেরেই আন্তর্জাতিক এই সংস্থার বোর্ড থেকে সরে দাঁড়াতে হয় বিল গেটসকে।

তবে এ তথ্যের বিষয়ে গেটসের মুখপাত্র নিশ্চিত করেন যে প্রায় ২০ বছর আগে এমন একটি বিষয় ছিল, তবে তা আপসেই শেষ হয়েছিল। বিল গেটসের বোর্ড ছাড়ার সঙ্গে এ বিষয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এর মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে আরেক তথ্য। সাবেক এই দম্পতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ঘনিষ্ঠজনের বরাত দিয়ে তারা জানায়, বিল গেটসের আচরণ অনেক আগেই থেকে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল মেলিন্ডা গেটসের কাছে। ২০১৮ সালে মাইক্রোসফটের দীর্ঘদিনের অর্থ ব্যবস্থাপকের মাইকেল লারসনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনা বিল গেটস যেভাবে সামলেছেন, তা পছন্দ হয়নি মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের। বিল গেটস বিষয়টি গোপনে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি করতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে মেলিন্ডা চেয়েছিলেন বাইরের কোনো সংস্থাকে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করার। আবার বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে মাইক্রোসফট ও বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে কর্মরত নারীদের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন বিল গেটস, যা অনেকেরই নজরে পড়ে।

মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের ভালো সম্পর্ক নিয়েও বিরক্ত ছিলেন মেলিন্ডা। ২০১১ সালের শুরু থেকে এপস্টেইনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয় বিল গেটসের। অথচ এর আগেই এই ধনকুবেরের বিরুদ্ধে জঘন্য সব অভিযোগ ওঠে। নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এপস্টেইনের বিরুদ্ধে ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের জোরপূর্বক যৌনকর্মে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। ২০০৮ সালের ৬ জুলাই নিউ জার্সিতে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তারও করা হয় তাঁকে। অথচ সবকিছু জেনেও প্রায়ই এপস্টেইনের পার্টিতে যেতেন গেটস।

তবে এসবের বিষয়ে গেটসের মুখপাত্র জানান, মাইক্রোসফট ও ফাউন্ডেশনের নারী কর্মীদের সঙ্গে গেটসের যে আচরণের কথা বলা হচ্ছে তা ঠিক নয়। ওই মুখপাত্র আরও জানান, এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর অবশ্যই কোনো ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বা ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল না। তিনি আরও বলেন, গেটস কখনো এপস্টাইনের সঙ্গে সামাজিকীকরণ করেননি বা তাঁর পার্টিতে অংশ নেননি।

তবে এনবিসিনিউজ ডট কমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গেটসের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কিত প্রতিবেদনগুলো তাঁর যে ব্যাপক সুনাম রয়েছে তা ক্ষুণ্ন হওয়ারই ইঙ্গিত দেয়।

গত ২০ বছর ধরে মার্কিন জনগণ যেন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাস হারাচ্ছিলেন। তবে সেই জায়গায় গেটস আরও বেশি কর্তৃত্ব অর্জন করতে পেরেছিলেন। বিশ্বব্যাপী ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করেছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অর্থ ঢেলেছেন। জনহিতকর কর্মকাণ্ডের সম্মানে ২০০৫ সালে টাইম ম্যাগাজিন ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করে মেলিন্ডা গেটস, ইউ টু রকার বোনো ও বিল গেটসকে। বিশ্বব্যাপী, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি ও চরম দারিদ্র্য হ্রাস এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, শিক্ষাগত সুযোগগুলো প্রসারিত করা এবং তথ্য প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বা প্রবেশের সুযোগ প্রদান করতে ২০০০ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক টিকা কর্মসূচির সমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে বিল গেটসের জন্য। মিডিয়ায় উপস্থিতির মাধ্যমে, তিনি বিশ্বব্যাপী এই সহযোগিতার জন্য মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছেন। এখন কি তাঁর এত এত অর্জন মলিন হবে ব্যক্তিগত বিষয়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply




© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY SheraWeb.Com